আল্লাহর জ্যোতি


আল্লাহ্ তায়ালা আদম সৃষ্টির পূর্বে অনেক প্রানী সৃষ্টি করেছেন এবং সকল প্রাণীতেই তিনি বিদ্যমান ছিলেন। অথচ উক্ত প্রাণীসমূহকে আপন সুরতে সৃষ্টির কথা বলা হয়নি। উক্ত সৃষ্টিসমূহ তো পূর্বে সৃষ্টিতে বিদ্যমান ছিলো না তাদের সুরত না দেখেই তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছিলো। তবে হযরত আদম (আঃ)-কে নিজ সুরতে সৃষ্টি করা হলো কি কারণে? আল্লাহ্ বলেনঃ অর্থ, আমি পৃথিবীতে প্রতিনিধি সৃষ্টি করিতেছি। (সুরাঃ বাক্বারা, আয়াতঃ ৩০)

আল্লাহ্ পাক আদম তথা মানুষকে তাঁর প্রতিনিধি আখ্যায়িত করলেন কারণ সুরত ও প্রকৃতিগত দিক থেকে সমগোত্রিয় না হলে প্রতিনিধি হওয়া সম্ভব নয়। যেমন অন্য কোন প্রাণীর পক্ষে মানুষের প্রতিনিধি হওয়া সম্ভব নয়। আল্লাহর সুরত ও প্রকৃতির উপর হযরত আদম (আঃ)-কে অর্থাৎ মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে বিধায় একমাত্র মানুষকে তাঁর প্রতিনিধি হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। উপরোক্ত বিশ্লেষণ মতে প্রমানিত হয় যে, আদম তথা মানুষের সুরতই আল্লাহর সুরত।

হযরত মুসা (আঃ) আল্লাহ্ কে দেখতে চেয়েছিলেন। অনন্ত অসীম রূপে আল্লাহ্ কে দেখা যায় না। আল্লাহ্ হযরত মুসা (আঃ)-কে বলেছেন, তুমি আমাকে দেখতে পাবে না। কিন্তু অন্তর্চক্ষে বা দিব্যদৃষ্টিতে আল্লাহ্ কে দেখা যাবে না এমন কথা আল্লাহ্ কোথাও বলেননি, বরং বলেছেন, অর্থঃ যে আল্লাহর সহিত সাক্ষাৎকার কামনা করে সে জেনে রাখুক আল্লাহর নিধার্রিত কাল আসবেই। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (সুরাঃ আনকাবুত, আয়াতঃ ৫)

অথচ আল্লাহ্ কে দেখাই যাবে না বলে যে, ভ্রান্ত ধারণা আমাদের মধ্যে চালু রয়েছে তা বরঞ্চ কোরআনের উপরোক্ত আয়াতের মর্মের সাথে সামঞ্জস্যহীন বলেই প্রতীয়মান হয়। মাদিয়ান থেকে ফিরার পথে হযরত মুসা (আঃ) অন্ধকারে যখন পথ ভুলে গিয়েছিলেন তখন দূর থেকে তিনি আগুন দেখতে পেয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ বলেন, “সে যখন আগুন দেখলো তখন পরিবারবর্গকে বললো, ‘তোমরা থাক আমি আগুন দেখেছি। সম্ভবতঃ ‘আমি তোমাদের জন্য উহা হতে আগুন আনতে পারবো অথবা আমি উহার নিকট কোন পথ প্রদর্শক পাবো।’ অতঃপর যখন সে আগুনের নিকট আসলো তখন আহবান করে বলা হলো, হে মুসা! আমিই তোমার প্রতিপালক, অতত্রব তোমার পাদুকা খুলে ফেলো, কারণ তুমি পবিত্র ‘তোয়া’ উপত্যকায় রয়েছ। এবং আমি তোমাকে মনোনীত করেছি অতত্রব যা প্রত্যাদেশ করা হচ্ছে তুমি তা মনোযোগের সাথে শ্রবণ করো। (সুরাঃ ত্বাহা, আয়াতঃ ১০-১৩)

আগুন কি? আগুনের কাছে পথের সন্ধানই বা কি? আগুন হলো প্রেমাগ্নি, বিভূ প্রেমে পুড়তে পুড়তে দেহমনকে অঙ্গারে পরিণত করতে পারলেই পরম সত্ত্বার নৈকট্য লাভের পথের সন্ধান পাওয়া যায়। আল্লাহ্ আরো বলেন, “মুসা যখন আমার নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হলো এবং তার সাথে কথা বললেন, তখন সে বললো, “হে আমার প্রতিপালক! আমাকে দর্শণ দাও, আমি তোমাকে দেখবো, তিনি বললেন, তুমি আমাকে কখনোই দেখবে না। তুমি বরং পাহাড়ের প্রতি লক্ষ্য করো, যদি উহা স্বস্থানে স্থির থাকে তবে তুমি আমাকে দেখবে, যখন তার প্রতিপালক পাহাড়ে জ্যোতিষ্মান হলেন তখন উহা পাহাড়কে চূর্ণ-বিচূর্ণ করলো আর মুসা সংগাহীন হয়ে পরলো। যখন সে জ্ঞান ফিরে পেলো তখন বললো, মহিমাময় তুমি! আমি অনুতপ্ত হয়ে তোমাতেই প্রত্যাবর্তন করলাম এবং বিশ্বাসীদের মধ্যে আমিই প্রথম।” (সুরাঃ আরাফ, আয়াতঃ১৪৩)

হযরত মুসা (আঃ) পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে আল্লাহর জ্যোতি দর্শনে মুর্ছিত হয়ে গেলেন অর্থাৎ ভাবাবিষ্ট হয়ে গেলেন। পার্থিব চেতনা লুপ্ত হয়ে গেলো। চর্মচক্ষের দৃষ্টিপথ থেকে ইহজাগতিক সমস্তকিছু চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেলো অর্থাৎ সংস্কারের পাহাড় ধ্বংস হয়ে গেলো আর জাগ্রত হলো পরম চৈতন্য।

এই রূপেই ধ্যাণমগ্ন ও ভাবাবিষ্ট অবস্থায় উপনীত হতে পারলেই সাধক পাবে পরম সত্যের পরিচয়-সাক্ষাৎ। এই বেহুশ হয়ে দুনিয়াকে ভুলে যেতে পারলেই অনন্ত অসীম সত্ত্বা সীমার মাধ্যমে স্বরূপে ধরা দেয়। নিছক চর্মচক্ষে দেখার সাধ্য কারো নেই; তবে দিব্য চোখ (কাশ্ফ) খুলে গেলে ওই ভাবে জ্যোতির্ময় পরম সত্ত্বা (নুরুন-আলা-নূর) রূপে তাঁকে দেখা সম্ভবপর চর্মচোখ দিব্যচোখ তখন অবশ্য একাকার হয়ে যায়, থাকে না কোন অন্তরায়। আল্লাহ্ বলেন, “তিনি দৃষ্টির অধিগম্য নহেন কিন্তু দৃষ্টিশক্তি তাঁর অধিগত এবং তিনিই সূক্ষ্মদর্শীর, সম্যক পরিজ্ঞাত।” (সুরাঃ আনআ’ম, আয়াতঃ ১০৩)

তিনি দৃষ্টির অধিগম্য নন এ কথার অর্থ এই নয় যে, তাঁর দর্শণ কোন দিন ও সম্ভব নয়। মানুষের মধ্যে আল্লাহর যে বিকাশ হয়ে থাকে তা মানুষের দেখার ক্ষমতা নেই। অথচ তিনি সর্ব বিষয়ে অতি সূক্ষ্ম দৃষ্টি সম্পন্ন হওয়ার কারণে সবার দৃষ্টি তিনি ধারণ করে থাকেন। একজন কামেল মোকাম্মেল অলি সবাইকে চেনেন কিন্তু তাকে মোমেন ব্যতীত কেহ চিনতে পারে না। আল্লাহর সাক্ষাৎ সম্পর্কে আল্লাহ্ পাক বলেন, “হে মানুষ! তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকটে পৌছানো পর্যন্ত কঠোর সাধনা করে থাক, পরে তুমি তাঁর সাক্ষাৎ লাভ করবে। (সুরাঃ ইনশিকাক, আয়াতঃ ০৬)

এই আয়াত খানিতে আল্লাহর সাক্ষাতের জন্য কঠোর সাধনার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ তাঁকে পাওয়ার জন্য কঠোর সাধনায় লিপ্ত হলে অবশেষে তাঁর সাক্ষাৎ বা দর্শণ লাভ হবে এই কথাই এখানে বলা হয়েছে। কোন নিরাকার বস্তুর সাথে সাক্ষাৎ কি ভাবে সম্ভব?  আল্লাহ্ তাঁর বিশেষ মেহেরবাণীতে হযরত মুসা (আঃ)-কে পৌছিয়ে ছিলেন ওই পবিত্র উপত্যকায়। তিনি আপন প্রচেষ্টায় সেখানে পৌঁছাতে পারতেন না। কেউ যদি আপন চেষ্টায় সেখানে পৌঁছতে চেষ্টা করে, তবে তার সময় লাগবে পঞ্চাশ হাজার বছর। কেননা পৃথিবী থেকে আরশের দূরত্ব পঞ্চাশ হাজার বছরের পথের দূরত্বের সমান। অর্থ: “ফিরিশতা এবং রূহ আল্লাহর দিকে উর্ধগামী হয় এমন এক দিনে, যাহার পরিমাণ পার্থিব পঞ্চাশ হাজার বৎসর।” (সুরাঃ মায়ারিজ্ব, আয়াতঃ ৪)

তবে পীর মোর্শেদের তাওয়াজ্জোহে্র ফলে ইজতেবার পথে (বাঞ্চিত ব্যক্তির পথে) আধ্যাত্মিক পথের পথিক সেখানে পৌছতে পারে এক লহমায়। আল্লামা রূমী তাই বলেছেনঃ
সায়েরে যাহেদ হর শব রোজ রাহ
সায়েরে আরেফ হরদমে তা তখতে শাহ্।
অর্থঃ সাধক ওই শাহী দরবারে পৌছতে পারে অতি কঠোর সাধনার মাধ্যমে। আর যারা আরেফ (আল্লাহর পরিচয় ধন্য) তারা সেখানে পৌছায় প্রতিটি প্রশ্বাসে। আল-কোরআন বলে, “তিনিই আদি, তিনিই অন্ত, তিনিই ব্যক্ত ও তিনিই গুপ্ত এবং তিনি সর্ব বিষয়ে সম্যক অবহিত।” (সুরাঃ হাদীদ, আয়াতঃ৩)

“তিনিই আদি” অর্থাৎ এই মহা বিশ্ব সৃষ্টির অস্তিত্ব প্রাপ্তির পূর্বেও তিনি ছিলেন। তিনি সৃষ্টিকে অনস্তিত্বের অন্ধকার থেকে অস্তিত্বের আলোয় আনয়ন করেছেন। ‘তিনিই অন্ত’ অর্থাৎ সমস্ত সৃষ্টি এক সময় ধ্বংস হয়ে যাবে আর তখনও তিনি অস্তিত্ববান থাকবেন। কেননা তাঁর সত্ত্বা ও অস্তিত্ব ক্ষয়, লয় ও ধ্বংস থেকে চিরস্থায়ীভাবে সুরক্ষিত। ‘তিনিই ব্যক্ত’ অর্থাৎ তিনিই সৃষ্টির মধ্যে স্বয়ং প্রকাশ। তিনি নিজেই নিজেকে প্রকাশ করেছেন। সমস্ত সৃষ্টির প্রকাশ হয় তাঁরই ইচ্ছায়। আত্ম প্রকাশের নিজের কোন ক্ষমতা বা ভিত্তি সৃষ্টির নেই। বরং তাদের সত্ত্বা, গুনাবলী-কার্যকলাপ আল্লাহ্ পাকের সত্তা-নাম গুনাবলীর প্রতিবিম্ব বা প্রতিচ্ছায়া মাত্র।

আল্লাহ্ সদা বিদ্যমান, আর সৃষ্টি সমূহের বিদ্যমানতা নির্ভরশীল তাঁর অভিপ্রায় ও অনুকম্পার উপর। ‘তিনিই গুপ্ত’ অর্থাৎ তিনি গুপ্তভাবে সৃষ্টির মধ্যে বিদ্যমান থেকে প্রকাশিত আছেন। তিনি প্রকাশিত থেকেও গুপ্ত কারণ তাঁর সত্ত্বার মূল তত্ত্ব তো চির রহস্যাবৃত চিরগোপন। কোন চক্ষু তাঁকে ধারণ করতে পারে না। তবে তিনি চক্ষুকে ধারণ করে থাকেন।

আমাদের আলোচ্য বিষয় ‘তিনিই ব্যক্ত’ এই আয়াতাংশের সাথে। যিনি ব্যক্ত বা প্রকাশ্য তা তো অপ্রকাশ্য হতে পারে না। যা প্রকাশ্য তা দৃশ্যমানও। অর্থাৎ তাকে দেখাও যাবে। তবে অন্যান্য সৃষ্টি বস্তুকে আমরা যে ভাবে দেখে থাকি এই দৃশ্যমানতা তা থেকে ভিন্ন। সৃষ্টি যে ভাবে দৃশ্যমান আল্লাহ্ সেভাবে দৃশ্যমান হন না। চোখের দৃষ্টিশক্তি থাকলেই সৃষ্টিকে দেখা যায়। আর স্রষ্টাকে এই চোখ দ্বারা দেখা যায় না। তাকে দেখার জন্য বাহ্যিক চোখই যথেষ্ট নয়। তার জন্য প্রয়োজন ভিন্ন চোখের। আর যা রয়েছে মানুষের ভিতরেই। ওই চোখকে কার্যক্ষম করতে পারলেই আল্লাহ্ দৃশ্যমান হয়ে উঠেন। আল্লাহ্ সেই চোখকেই ধারণ করে থাকেন।

মানব জনমের উদ্দেশ্য বা চুড়ান্ত লক্ষ্যই হলো আল্লাহে্র নৈকট্য ও সাক্ষাৎ লাভ করা। আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহ্ কে লাভ করতে পারে। বলা হয়েছে, “আমার স্মরণের উদ্দেশ্যে সালাত কায়েম করো।” (সুরাঃ ত্বাহা, আয়াতঃ ১৪)

স্মরণ হলো এক প্রকার দেখা বা সাক্ষাৎ। অদৃশ্য বস্তুকে কি ভাবে স্মরণ করা যাবে? যাকে স্মরণ করা হয় তার প্রতিচ্ছবি অন্তরে দৃশ্যমান হয় আর তাকেই স্মরণ বলা হয়। আর তা কিন্তু বাহ্যিক চক্ষু দ্বারা সম্পন্ন করা হয় না। তা অন্তর্চক্ষু দ্বারা সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। যাকে স্মরণ করা হয় তার সঙ্গে পূর্ব পরিচিতি থাকা ও প্রয়োজন। কেবল মাত্র নাম শ্রবণ দ্বারা কাহাকেও স্মরণ করা যায় না যদি না তার কোন আকৃতি মানুষ পটে দৃশ্যমান হয়। অন্যত্র বলা হয়েছে, “অতঃপর যখন তোমরা সালাত সম্পন্ন করো, তখন দাঁড়ানো, বসা ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহ্ কে স্মরণ করো।” (সুরাঃ নিসা, আয়াতঃ ১০৩)

উক্ত আয়াত দ্বারা সবার্বস্থায় আল্লাহ্ কে স্মরণ করতে বলা হয়েছে। পূর্ব পরিচিতি ছাড়া কাহাকেও স্মরণ করা যায় না। পরিচিতি লাভ করতে হলে দেখা সাক্ষাৎ প্রয়োজন। এ জন্যই আল্লাহ্ কে না দেখলে ইবাদত বন্দেগী হয় না। মা, বাবা, ভাই, বন্ধু অথবা কোন ঘনিষ্ট জনকে স্মরণ করতে গেলে যেমন তার প্রতিচ্ছবি স্মৃতি পটে ভেসে ওঠে তেমনি আল্লাহ্ কে স্মরণ করতে ও তাঁর প্রতিচ্ছবি থাকা প্রয়োজন। সুতরাং সালাত, স্মরণ বা ইবাদত বন্দেগী করতে হলেও তাঁকে দেখা প্রয়োজন। হযরত রাসুল পাক (সাঃ) বলেছেন, “তুমি এমন ভাবে আল্লাহর বন্দেগী করো, যেন তুমি আল্লাহ্ কে দেখিতেছ। যদি উহা না পারো তবে এইরূপ ভাবে আল্লাহর এবাদত করো, যেন আল্লাহ্ তোমাকে দেখিতেছি।” আল্লাহ্ কে দেখে এবাদত করতে বলা হয়েছে। সেটা সম্ভব না হলেই কেবল বিকল্প কোন দিন স্থায়ী ব্যবস্থা হতে পারে না। তা হতে পারে সাময়িক। অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ্ কে দেখার স্তরে না পৌঁছায়ায়।

অন্যত্র হযরত রাসুল পাক (সাঃ) বলেন, অর্থাৎ সালাতে মোমেনের মেরাজ হয়। সালাতের মধ্যে মোমেন ব্যক্তির সাথে আল্লাহ্ পাকের দেখা বা সাক্ষাৎ হয়। এই হাদীস মতে যে ব্যক্তির সালাতে আল্লাহর সাথে দেখা বা সাক্ষাৎ হয় না সে ব্যক্তি মোমেন নয়। আল্লাহ্ পাক বলেন, “নিশ্চয়ই এটা সম্মানিত কোরআন, যা আছে গোপন কিতাবে।” (সুরাঃ ওয়াকিয়া, আয়াতঃ ৭৭-৭৮)

অন্যত্র বলা হয়েছে, “এবং মূল গ্রন্থ তাঁর কাছেই রয়েছে।” (সুরাঃ রা’দ, আয়াতঃ ৩৯) আয়াত দু’খানিতে দেখা যাচ্ছে, কাগজে লিপিবদ্ধ কোরআন যদি ও সম্মানিত কোরআন তবুও এর প্রকৃত তত্ত্ব রয়েছে গোপন কিতাবে আল্লাহর নিকট। আর সে কিতাবই মূল কিতাব। তাই আল্লাহ্ কে না চিনলে বা না দেখলে প্রকৃত কোরআনও জানা হবে না আর তার তত্ত্বও জানা হবে না। শুধুই মুখস্থ ও পাঠই করা হবে।

উপরোক্ত আলোচনা হতে আমরা জানতে পারলাম মানুষের এবাদত-বন্দেগী, সালাত স্মরন যাই বলি না কেন তার জন্য সবার্গ্রে আল্লাহর পরিচিতি এবং দেখা-সাক্ষাৎ প্রয়োজন।

Comments